চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ঘনিষ্ঠতা, নজরে নয়াদিল্লি

নয়াদিল্লি: দক্ষিণ এশিয়ায় চিনের সামরিক প্রভাব নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। পাকিস্তানের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ঘনিষ্ঠ প্রতিরক্ষা সম্পর্কের পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গেও বেজিংয়ের সামরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ চিনের তৈরি J-10CE যুদ্ধবিমান ও অ্যাটাক হেলিকপ্টার কেনার বিষয়ে আলোচনায় এগিয়েছে বলে খবর। 

বাংলাদেশের সামরিক সরঞ্জামের অন্যতম প্রধান জোগানদার চিন। গত দুই দশকে চিন বাংলাদেশকে নৌযান, ট্যাঙ্ক, ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ও যুদ্ধবিমান-সহ বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করেছে। ফলে ঢাকার প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় বেজিংয়ের ভূমিকা নতুন নয়, তবে সাম্প্রতিক তৎপরতায় সেই সম্পর্ক আরও গুরুত্বপূর্ণ মাত্রা পাচ্ছে। 

অন্যদিকে, পাকিস্তানের সঙ্গে চিনের সামরিক সম্পর্ক আরও গভীর। দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিরক্ষা প্রকল্পে সহযোগিতা করছে। বাংলাদেশের সঙ্গেও পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা যোগাযোগ বাড়ছে। চলতি বছরের শুরুতে ইসলামাবাদ ও ঢাকার মধ্যে JF-17 যুদ্ধবিমান নিয়ে আলোচনা এবং সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তির বিষয়টি সামনে আসে। 

এই পরিস্থিতিতে ভারতের কৌশলগত মহলে স্বাভাবিকভাবেই নজর পড়েছে দক্ষিণ এশিয়ার বদলে যাওয়া নিরাপত্তা সমীকরণের দিকে। একদিকে পাকিস্তান, অন্যদিকে বাংলাদেশের সঙ্গে চিনের সামরিক সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হলে ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম—দুই দিকেই কৌশলগত চাপ বাড়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

তবে এটিকে সরাসরি ‘চিন-পাকিস্তান-বাংলাদেশ সামরিক জোট’ হিসেবে দেখার মতো পরিস্থিতি এখনও তৈরি হয়নি। বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা নীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিজস্ব কৌশলগত স্বার্থও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে আগামী দিনে ঢাকা-বেজিং প্রতিরক্ষা সম্পর্ক কোন দিকে এগোয়, সেটিই এখন নজরে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

বিধানসভা থেকে বই ফেরত না দিলে মমতার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা: গ্রন্থাগারমন্ত্রী

সীমান্তে পৌঁছনোর আগেই পুলিশের জালে পাচারকারী! গাড়ি থেকে উদ্ধার ১২০০ শিশি ফেন্সিডিল