২০ সাংসদের পদ খারিজের হুঙ্কার কল্যাণের, শুভেন্দুকে জোড়া চ্যালেঞ্জ
কলকাতা: তৃণমূল ছাত্র পরিষদের প্রতিষ্ঠা দিবসের সভামঞ্চ থেকে ফের রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল রাজ্যে। মঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় একদিকে তৃণমূলত্যাগী সাংসদদের নিশানা করেন, অন্যদিকে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন।
ছাত্র-যুব সমাজের ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে কল্যাণ বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তরুণ প্রজন্মের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর দাবি, জেন-জি আন্দোলন দেখিয়ে দিয়েছে কীভাবে আন্দোলনের মাধ্যমে পরিবর্তনের দাবি সামনে আনা যায়। বাধা এলেও ছাত্র সমাজকে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এরপরই দলবদলকারী সাংসদদের প্রসঙ্গ তোলেন শ্রীরামপুরের সাংসদ। তাঁর দাবি, তৃণমূল ছেড়ে যাওয়া ২০ জন সাংসদের পদ খারিজ করানোর জন্য তিনি লড়াই চালিয়ে যাবেন। আগামী এক বছরের মধ্যে ওই আসনগুলিতে ফের নির্বাচন হবে বলেও মঞ্চ থেকে দাবি করেন তিনি।
শুভেন্দু অধিকারীকে আক্রমণ করে কল্যাণ বলেন, বিরোধী শিবিরের বর্তমান পরিস্থিতি বদলানোর সময় এসে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে আটকে রাখার চেষ্টা হলে তার রাজনৈতিক জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি। জেল বা অন্য কোনও চাপ এলেও তৃণমূলের হয়ে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দেন কল্যাণ।
শুধু সাংসদ নয়, দলবদলকারী বিধায়কদের নিয়েও সরব হন তিনি। তাঁর বক্তব্য, ২০ জন সাংসদকে ঘিরে যে লড়াই শুরু হয়েছে, তা খুব শীঘ্রই আরও প্রায় ৬০ জন বিধায়কের ক্ষেত্রেও শুরু হবে।
এর পাশাপাশি শুভেন্দুর উদ্দেশে দুটি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেন কল্যাণ। প্রথমত, ভবানীপুরের গণনার সিসিটিভি ফুটেজ প্রকাশ এবং সেখানে পুনর্গণনার দাবি জানান তিনি। দ্বিতীয়ত, বিকেল ৩টেয় ‘বন্দেমাতরম’-এর চার পংক্তি গেয়ে শোনানোর চ্যালেঞ্জও দেন।
কল্যাণের এই বক্তব্যকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। তাঁর একের পর এক মন্তব্যে স্পষ্ট, দলবদল এবং ভবানীপুরের ভোট-প্রসঙ্গকে সামনে রেখে শাসক ও বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক সংঘাত আরও তীব্র হতে চলেছে।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন