আশিসের মৃত্যুতে শোক, তবু থামছে না TRDA তদন্ত
আশিসের মৃত্যুতে শোক, তবু থামছে না TRDA তদন্ত
রামপুরহাটে প্রয়াত নেতার বাড়িতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বার্তা—‘দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান চলবে, তদন্তের পর ব্যবস্থা’
নিজস্ব সংবাদদাতা, রামপুরহাট: প্রয়াত আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যু বেদনাদায়ক। তাঁর শোকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। কিন্তু একই সঙ্গে স্পষ্ট করে দিলেন, আশিসের মৃত্যুর ঘটনায় শোক থাকলেও তারাপীঠ-রামপুরহাট উন্নয়ন পর্ষদ বা TRDA-কে ঘিরে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত থেমে যাবে না।
শনিবার বীরভূম সফরে রামপুরহাটে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের বাড়িতে যান মুখ্যমন্ত্রী। পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন, তাঁদের পাশে থাকার আশ্বাসও দেন। বাড়ি থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আশিসের মৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক। তবে সেই ঘটনার জেরে দুর্নীতির বিরুদ্ধে চলা তদন্ত বন্ধ হয়ে গিয়েছে বলে কেউ মনে করলে ভুল করবেন।
গত ১৬ অগস্ট রামপুরহাটের বাসভবনের নীচতলার পার্টি অফিস থেকে প্রাক্তন মন্ত্রী তথা বিধানসভার প্রাক্তন ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঝুলন্ত দেহ উদ্ধার হয়। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিঠিও পাওয়া যায়। তদন্তকারীরা সেটিকে আত্মহত্যার নোট হিসেবে খতিয়ে দেখছেন। ওই চিঠিতে TRDA-র টেন্ডার প্রক্রিয়া, চেক পাওয়ার, প্ল্যান অনুমোদন বা NOC দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁর কোনও ভূমিকা ছিল না বলেও উল্লেখ করা হয়েছিল।
আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় দীর্ঘদিন তারাপীঠ-রামপুরহাট এলাকার উন্নয়ন ও পর্যটন সংক্রান্ত পর্ষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্বে ছিলেন। বিধানসভা ভোটের আগে ওই সংস্থাকে ঘিরে আর্থিক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। পরে সেই অভিযোগের তদন্তও শুরু হয়। আশিসের মৃত্যুর পর সেই তদন্তের ভবিষ্যৎ নিয়ে জল্পনা তৈরি হলেও শনিবার মুখ্যমন্ত্রী কার্যত সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে দেন।
তাঁর স্পষ্ট বার্তা, TRDA নিয়ে তদন্ত হয়েছে, আগামী দিনেও তদন্ত চলবে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হবে।
তবে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বক্তব্যের বাইরেও এদিন উঠে আসে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পর্কের প্রসঙ্গ। শুভেন্দু অধিকারী জানান, তাঁর দেওয়া একটি কালীমূর্তি এখনও প্রয়াত নেতার বাড়িতে রয়েছে। পরিবারের সদস্যদের কাছ থেকে তিনি জানতে পেরেছেন, আশিস বন্দ্যোপাধ্যায় প্রতিদিন সকালে সেই মূর্তিতে পুজো দিয়ে প্রণাম করতেন। এই ঘটনায় তিনি গর্বিত বলেও জানান মুখ্যমন্ত্রী।
প্রয়াত নেতার পুত্র শতদল বন্দ্যোপাধ্যায়ও মুখ্যমন্ত্রীর ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার পর থেকেই মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের পরিবারের পাশে রয়েছেন। শনিবার পরিবারের সদস্যদের নিজের মোবাইল নম্বরও দিয়ে যান তিনি।
এদিন বীরভূম সফর থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ঘোষণাও করেন মুখ্যমন্ত্রী। তারাপীঠের উন্নয়নের জন্য আলাদা করে ৫ কোটি টাকা বরাদ্দের কথা জানানো হয়েছে। পুণ্যার্থীদের নিরাপত্তা বাড়াতে তারাপীঠ যাওয়ার পথে প্রতি পাঁচ কিলোমিটার অন্তর পুলিশ ক্যাম্প এবং প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি পর্যটকদের সুবিধার জন্য বড় ট্যুরিস্ট লজ তৈরির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে জেলা প্রশাসনকে।
তারাপীঠের হোটেলে সাম্প্রতিক ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হবে বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, ডেউচা পাচামি খাদান থেকে রাজস্ব আদায়ের প্রসঙ্গ তুলে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন, গত তিন মাসে সেখানে ২৫৫ কোটি টাকার বেশি রাজস্ব আদায় হয়েছে। তাঁর কথায়, আগের সরকারের আমলে যেখানে গোটা বছরে প্রায় ৮২ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হত, সেখানে মাত্র তিন মাসেই সেই অঙ্ক কয়েক গুণ বেড়েছে।
শোকের আবহে আশিসের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো এবং একই সঙ্গে দুর্নীতির তদন্ত চালিয়ে যাওয়ার বার্তা—বীরভূম সফর থেকে মুখ্যমন্ত্রীর এদিনের বক্তব্যে স্পষ্ট, TRDA নিয়ে তদন্তের পর্দা এখনও নামছে না।

মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন