৮ বছর পর বারাসাতে ডার্বি, নিরাপত্তায় ১১০০ পুলিশ! ত্রিস্তরীয় বলয়, কড়া ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ

বারাসাত: দীর্ঘ আট বছর পর বারাসাতের বিদ্যাসাগর ক্রীড়াঙ্গনে ফিরেছে ফুটবল। আর সেই প্রত্যাবর্তনেই বড় ম্যাচ। সোমবার কলকাতা প্রিমিয়ার লিগের ডার্বিতে মুখোমুখি হবে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগান। দীর্ঘ ১৬ বছর পর এই মাঠে ফ্লাডলাইটের আলোয় ডার্বি হতে চলেছে। ম্যাচকে ঘিরে ইতিমধ্যেই বাড়তি উত্তেজনা তৈরি হয়েছে ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে। পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরাপত্তায় বিশেষ জোর দিয়েছে জেলা প্রশাসন।

ম্যাচের নিরাপত্তায় প্রায় ১১০০ পুলিশ কর্মী মোতায়েন করা হচ্ছে। তাঁদের নেতৃত্বে থাকবেন ছ’জন এডিশনাল এসপি পদমর্যাদার আধিকারিক। বারাসাত পুলিশ জেলার পাশাপাশি বাইরের জেলা থেকেও অতিরিক্ত পুলিশ কর্মী আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন পুলিশ সুপার জে. মার্সি।

দুপুর ৩টে থেকেই নিরাপত্তার বলয়

ম্যাচ শুরু হওয়ার কথা বিকেল ৫টায়। তবে তার দু’ঘণ্টা আগে, অর্থাৎ দুপুর ৩টে থেকেই স্টেডিয়াম ও সংলগ্ন এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করা হবে।

দর্শকদের জন্য রাখা হয়েছে ত্রিস্তরীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা। প্রথম ধাপে টিকিট পরীক্ষা করে দর্শকদের নির্দিষ্ট ব্লকে পাঠানো হবে। দ্বিতীয় ধাপে হবে ব্যাগ ও সঙ্গে থাকা সামগ্রীর তল্লাশি। এরপর আয়োজকদের পক্ষ থেকে কিউআর কোড যাচাই করার পর স্টেডিয়ামে ঢোকার অনুমতি দেওয়া হবে।

পুলিশের তরফে জানানো হয়েছে, নিষিদ্ধ সামগ্রী তো নয়ই, জলের বোতল, ছাতা-সহ বেশ কিছু জিনিস নিয়েও মাঠে প্রবেশ করা যাবে না। দর্শকদের জন্য স্টেডিয়ামের ভিতরেই পানীয় জলের ব্যবস্থা থাকবে।

দুই দলের সমর্থকদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ

ডার্বি ম্যাচে দুই দলের সমর্থকদের মধ্যে যাতে কোনও ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি না হয়, তার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দুই দলের দর্শকদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ এবং পৃথক পার্কিংয়ের ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।

স্টেডিয়ামে দর্শকদের প্রবেশের জন্য মোট চারটি গেট ব্যবহার করা হবে। পাশাপাশি কোনও জরুরি পরিস্থিতি তৈরি হলে দ্রুত দর্শকদের নিরাপদে বের করে আনার জন্য আরও দুটি গেট প্রস্তুত রাখা হচ্ছে।

বারাসাতে যান চলাচলেও বিধিনিষেধ

ডার্বির কারণে বারাসাত শহরের যান চলাচলেও বিশেষ নিয়ন্ত্রণ জারি করা হচ্ছে। পুলিশ জানিয়েছে, দুপুর ৩টের পর থেকে শহরের ভিতরে পণ্যবাহী যানবাহন প্রবেশের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ থাকবে।

স্টেডিয়ামের উল্টো দিকে থাকা স্কুলের পড়ুয়াদের নিরাপদে সরিয়ে দেওয়ার পর এই ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণ কার্যকর করা হবে। স্টেডিয়ামের সামনে কোনও ধরনের জমায়েতও করতে দেওয়া হবে না।

প্রস্তুত অ্যাম্বুল্যান্স, মেডিক্যাল টিম

শুধু দর্শকদের প্রবেশ ও যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ নয়, জরুরি পরিস্থিতির জন্যও বিশেষ পরিকল্পনা করেছে পুলিশ ও প্রশাসন। ভিআইপি এলাকা, দুই দলের সমর্থকদের বসার জায়গা এবং প্রয়োজনে দর্শকদের দ্রুত বের করে আনার পথ—সবকিছুই নিরাপত্তা পরিকল্পনার আওতায় রাখা হয়েছে।
মাঠে প্রস্তুত থাকবে অ্যাম্বুল্যান্স এবং মেডিক্যাল টিমও।
আট বছর পর বারাসাতে ফুটবলের প্রত্যাবর্তন এবং ১৬ বছর পর ফ্লাডলাইটে ডার্বি—সব মিলিয়ে সোমবারের ম্যাচ ঘিরে উত্তেজনা তুঙ্গে। তবে ফুটবল উন্মাদনার মাঝেও যাতে কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতেই প্রায় ১১০০ পুলিশ কর্মী নিয়ে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ঘনিষ্ঠতা, নজরে নয়াদিল্লি

গেরুয়ার মর্যাদা ও আদর্শের বার্তা, ৯ সেপ্টেম্বর ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ শুভেন্দু অধিকারীর

বিধানসভা থেকে বই ফেরত না দিলে মমতার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা: গ্রন্থাগারমন্ত্রী