লাইনে ধসের জেরে তৃতীয় দিনেও বিপর্যস্ত রেল পরিষেবা! শনিবার বাতিল উত্তরবঙ্গ-কলকাতার একাধিক ট্রেন

কলকাতা: নিউ ফরাক্কার কাছে রেললাইনে ধসের জেরে তৃতীয় দিনেও স্বাভাবিক হয়নি ট্রেন পরিষেবা। আপ লাইনে এখনও বন্ধ রয়েছে ট্রেন চলাচল। যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ট্র্যাক মেরামতির কাজ চালাচ্ছে রেল কর্তৃপক্ষ। তবে পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় শনিবারও উত্তরবঙ্গ থেকে কলকাতামুখী একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ট্রেন বাতিল করা হয়েছে। বেশ কিছু ট্রেন আবার ঘুরপথে চালানো হচ্ছে।

জানা গিয়েছে, নিউ ফরাক্কা স্টেশন থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে আপ লাইনে ধস নামে। বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে মেরামতির কাজ। দ্রুত ট্র্যাক সংস্কার করে স্বাভাবিক পরিষেবা ফেরানোর চেষ্টা চলছে। কিন্তু ধসের জেরে মেন লাইনের আপ লাইন দিয়ে এখনও ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

শনিবার বাতিল হওয়া গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনগুলি হল—

১২৩৪৬ গুয়াহাটি-হাওড়া সরাইঘাট এক্সপ্রেস

১৩১৪৮ বামনহাট-শিয়ালদা উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস

১৩১৫০ আলিপুরদুয়ার-শিয়ালদা কাঞ্চনকন্যা এক্সপ্রেস

১২৩৪৪ হলদিবাড়ি-শিয়ালদা দার্জিলিং মেল

১৩১৯০ বালুরঘাট-শিয়ালদা এক্সপ্রেস

১২৩৭৮ আলিপুরদুয়ার-শিয়ালদা পদাতিক এক্সপ্রেস

১৩১১৬ জলপাইগুড়ি-শিয়ালদা হামসফর এক্সপ্রেস

১৩১৪৬ রাধিকাপুর-কলকাতা এক্সপ্রেস

১৩১৬০ যোগবাণী-কলকাতা এক্সপ্রেস

১৩০৩৪ কাটিহার-হাওড়া এক্সপ্রেস

১৩০৫৪ রাধিকাপুর-হাওড়া কুলিক এক্সপ্রেস

১৩১৬২ বালুরঘাট-কলকাতা তেভাগা এক্সপ্রেস

১৩১৪২ নিউ আলিপুরদুয়ার-শিয়ালদা তিস্তা-তোর্সা এক্সপ্রেস

১৩০১২ মালদা টাউন-হাওড়া ইন্টারসিটি এক্সপ্রেস

রেল পরিষেবা ব্যাহত হওয়ায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। উত্তরবঙ্গ থেকে অনেকেই চিকিৎসার জন্য কলকাতায় এসেছিলেন। কেউ এসেছিলেন চাকরির পরীক্ষা দিতে, আবার কেউ ব্যক্তিগত বা জরুরি কাজে শহরে পৌঁছেছিলেন। কিন্তু ফেরার পথে ট্রেন বাতিল হওয়ায় চরম সমস্যার মুখে পড়েছেন তাঁরা।

অনেকে বাধ্য হয়ে বাসে ফেরার পরিকল্পনা করছেন। অভিযোগ, এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কিছু বেসরকারি বাসে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে। যাত্রীদের দুর্ভোগের কথা মাথায় রেখে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন রুটে অতিরিক্ত বাস চালানোর ব্যবস্থা করেছে রাজ্য সরকার। আটকে পড়া যাত্রীদের জন্য জল ও খাবারের ব্যবস্থাও করা হচ্ছে বলে জানা গিয়েছে।

তবে অতিরিক্ত বাস পরিষেবা চালু হলেও বিপুল সংখ্যক যাত্রীর চাপ সামলানো এখনও বড় চ্যালেঞ্জ। ফলে নিউ ফরাক্কার রেললাইন দ্রুত মেরামত করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার দিকেই তাকিয়ে রয়েছেন হাজার হাজার যাত্রী।

এদিকে বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্ষাকালে রেললাইনের নিচের মাটি দুর্বল হয়ে গেলে ধসের আশঙ্কা বাড়ে। প্রাক্তন রেলকর্তা সঞ্জয় ঘোষের মতে, বর্ষার আগে রেললাইনের বিপজ্জনক অংশগুলিতে বিশেষ সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। দুর্বল মাটি, নদী বা জলাশয়ের পাশের ট্র্যাক এবং ধসপ্রবণ এলাকাগুলিতে বাড়তি নজরদারি, পাইলিংসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে এমন পরিস্থিতির ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

এখন প্রশ্ন একটাই—কবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হবে নিউ ফরাক্কা রুটের ট্রেন পরিষেবা? মেরামতির কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত উত্তরবঙ্গের সঙ্গে কলকাতার রেল যোগাযোগে দুর্ভোগ আরও কিছুটা সময় চলতে পারে বলে আশঙ্কা যাত্রীদের।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ঘনিষ্ঠতা, নজরে নয়াদিল্লি

গেরুয়ার মর্যাদা ও আদর্শের বার্তা, ৯ সেপ্টেম্বর ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ শুভেন্দু অধিকারীর

বিধানসভা থেকে বই ফেরত না দিলে মমতার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা: গ্রন্থাগারমন্ত্রী