১,৩২২ কোটি টাকার ঋণ জালিয়াতির অভিযোগ, সুভাষ চন্দ্রের বিরুদ্ধে CBI-এর FIR

নয়াদিল্লি: জি-গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা তথা এসেল গোষ্ঠীর কর্ণধার সুভাষ চন্দ্রের বিরুদ্ধে ১,৩২২ কোটি টাকার ঋণ সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করেছে সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (CBI)। এলআইসি হাউসিং ফিন্যান্সের অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলা করা হয়েছে। ঋণ নেওয়ার সময় সম্পত্তির মূল্য বাড়িয়ে দেখানো হয়েছিল কি না, তা-ও তদন্ত করে দেখছে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা।

অভিযোগের সূত্রপাত ২০১৮ সালে। ওই সময়ে দুটি সংস্থাকে মোট ৯৮০ কোটি টাকা ঋণ দিয়েছিল এলআইসি হাউসিং ফিন্যান্স। পরবর্তী সময়ে সেই ঋণ অনাদায়ী হয়ে যায়। দুই ঋণের ক্ষেত্রেই সুভাষ চন্দ্র ব্যক্তিগত গ্যারান্টি দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ। সুদ ও অন্যান্য চার্জ-সহ এলআইসি হাউসিং ফিন্যান্সের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ১,৩২২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে বলে অভিযোগে জানানো হয়েছে।

কী অভিযোগ সুভাষ চন্দ্রের বিরুদ্ধে?

এলআইসি হাউসিং ফিন্যান্সের তরফে অভিযোগ করা হয়েছে, ঋণের জন্য ব্যক্তিগত গ্যারান্টি দেওয়ার সময় সুভাষ চন্দ্র তাঁর সম্পত্তির মূল্য বাস্তবের তুলনায় অনেক বেশি দেখিয়েছিলেন। একটি ক্ষেত্রে ২০১৭ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত তাঁর ব্যক্তিগত সম্পত্তির মূল্য প্রায় ৬১৯.৭৬ কোটি মার্কিন ডলার বলে উল্লেখ করা হয়েছিল বলে অভিযোগ। ভারতীয় মুদ্রায় যার মূল্য প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা।

দ্বিতীয় ঋণের ক্ষেত্রেও তাঁর সম্পত্তির মূল্য ৪০ হাজার কোটি টাকার বেশি দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে ঋণ নেওয়ার সময় তাঁর প্রকৃত আর্থিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সম্পূর্ণ তথ্য দেওয়া হয়েছিল কি না, সেটিই এখন তদন্তের অন্যতম বিষয়।

কীভাবে দেওয়া হয়েছিল ৯৮০ কোটি টাকার ঋণ?

অভিযোগ অনুযায়ী, প্রথম পর্যায়ে বসন্ত সাগর প্রপার্টিজ় প্রাইভেট লিমিটেড এবং প্যান ইন্ডিয়া ইনফ্রা প্রজেক্টস প্রাইভেট লিমিটেডকে মোট ৫০০ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হয়। পরে আরও ৪৮০ কোটি টাকা ঋণ নেয় ডিজিটাল সাবস্ক্রাইবার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কনসালটেন্সি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেড এবং স্পিরিট ইনফ্রা পাওয়ার অ্যান্ড মাল্টি ভেঞ্চারস প্রাইভেট লিমিটেড।

এই ঋণগুলির ক্ষেত্রে সুভাষ চন্দ্র ব্যক্তিগত গ্যারান্টার ছিলেন বলে অভিযোগ করেছে এলআইসি হাউসিং ফিন্যান্স।

FIR-এ আরও যাঁদের নাম

৩১ অগস্ট সিবিআই এই ঘটনায় এফআইআর দায়ের করে। সেখানে সুভাষ চন্দ্র ছাড়াও কয়েকজন সংস্থার কর্তা ও পরিচালকের নাম রয়েছে। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন বসন্ত সাগর প্রপার্টিজ় প্রাইভেট লিমিটেডের ডিরেক্টর পঙ্কজ সুরোলিয়া, প্যান ইন্ডিয়া ইনফ্রাস্ট্রাকচার প্রাইভেট লিমিটেড এবং ডিজিটাল সাবস্ক্রাইবার ম্যানেজমেন্ট অ্যান্ড কনসালটেন্সি সার্ভিসেস প্রাইভেট লিমিটেডের ডিরেক্টর আমিশ পান্ডিয়া। এছাড়াও স্পিরিট ইনফ্রা পাওয়ার অ্যান্ড মাল্টি ভেঞ্চারস প্রাইভেট লিমিটেডের ডিরেক্টর রাজীব ধোলাকিয়ার নামও রয়েছে।

এফআইআরে কয়েকজন সরকারি কর্মী ও আধিকারিকের ভূমিকা নিয়েও অভিযোগের উল্লেখ রয়েছে। তবে তাঁদের নাম অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়নি। ঋণ মঞ্জুরির পুরো প্রক্রিয়ায় তাঁদের কোনও ভূমিকা ছিল কি না, তদন্তে সেটিও খতিয়ে দেখা হতে পারে।

তদন্তে এখন কী?

এখন সিবিআইয়ের তদন্তের মূল বিষয় হল, ঋণ নেওয়ার সময় সম্পত্তি ও আর্থিক পরিস্থিতি সম্পর্কে যে তথ্য দেওয়া হয়েছিল, তা সঠিক ছিল কি না। পাশাপাশি ঋণ মঞ্জুরির ক্ষেত্রে কোনও অনিয়ম হয়েছিল কি না এবং ঋণ অনাদায়ী হওয়ার পিছনে কারও যোগসাজশ ছিল কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তবে সুভাষ চন্দ্রের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ এখনও তদন্তাধীন। অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে এমনটা বলা যায় না। এই বিষয়ে অভিযুক্ত পক্ষের বক্তব্যও এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

চিনের সঙ্গে বাংলাদেশের প্রতিরক্ষা ঘনিষ্ঠতা, নজরে নয়াদিল্লি

গেরুয়ার মর্যাদা ও আদর্শের বার্তা, ৯ সেপ্টেম্বর ‘গেরুয়া সম্মান যাত্রা’ শুভেন্দু অধিকারীর

বিধানসভা থেকে বই ফেরত না দিলে মমতার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা: গ্রন্থাগারমন্ত্রী